চট্টগ্রাম থেকে ৪৮ ঘন্টার বরিশাল জার্নি ????❤
২০ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৪ টায় আমরা চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে মিট করলাম...আমি এসে কাউন্টারে ঢুকে টিকেট করে ফেলি...লাইন ধরতে হয়নি সাথে সাথে পেয়ে গেলাম টিকেট...১৭০ টাকা দিয়ে চাঁদপুর গামী মেঘনা এক্সপ্রেস এর টিকেট কিনে প্ল্যাটফর্মে গিয়ে অপেক্ষা করলাম...ছবির পর্ব শেষে ট্রেনে উঠে আমাদের সিট খুঁজে বসে পরলাম...বিকাল ৫ টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে যায়...খুব সুন্দর একটা গৌধূলি বেলা উপভোগ করলাম...প্রায় রাত সাড়ে ১০ টায় চাঁদপুর স্টেশনে নামলাম নেমে রকেট এর ঘাটে গেলাম কিন্তু ঐই দিন রকেট বন্ধ ছিলো তাই আমরা সময় নষ্ট না করে লঞ্চ ঘাটে রিকশা নিয়ে চলে গেলাম...জনপ্রতি ৫ টাকা ঘাটের টিকেট কেটে ঘাটে প্রবেশ করলাম...বরিশালের লঞ্চ একদম শেষে দাঁড়ানো ছিলো তাড়াতাড়ি উঠে পরলাম...লঞ্চে ভিতরে তেমন জায়গা না পেয়ে একদম ছাদে চলে গেলাম...আমাদের এই সিদ্ধান্ত টা সেরা ছিলো একটু পরে বুঝতে পারলাম...যে বাতাস ঠাণ্ডায় কাঁপতে ছিলাম...ব্যাগ থেকে গামছা বের করে বিছিয়ে দিলাম এবং শুয়ে পরলাম...আকাশে তারার মেলা আর চাঁদামামা পানিতে সেই কিরণ দিচ্ছে...আহা অসাধারণ একটি জার্নি শুরু হলো...লঞ্চের ক্যান্টিনে গিয়ে রাতের খাবার খেয়ে নিলাম...প্রায় রাত ২ টায় আমরা বরিশাল পৌঁছায় গেলাম...এতো রাতে কোথাও যেতে না পেরে আবার গামছা বিছিয়ে লঞ্চ ঘাটে ঘুমিয়ে পরলাম ইমন ছবি তোলাতে ব্যস্ত ছিলো...প্রায় ভোর ৫ টায় আমরা রিকশা নিয়ে আটঘরের জন্য ম্যাজিক গাড়ির স্টেশনে গেলাম...প্রায় সকাল ৭ টায় আমরা আটঘর কুড়িয়ানা তে পৌঁছায়...ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিলাম নিতে নিতে ঐই দোকানে বসে এক মাঝির সাথে আলোচনা করি কত সময় লাগবে কত টাকা ভাড়া দিতে হবে...উনার কথা শুনে আকাশ থেকে পরলাম...অনেক টাকা দাবি করে তাই দোকান থেকে বের হয়ে একটু হাটলে অনেক ছোট নৌকার দেখা পাবেন...অবশেষে দরকষাকষি করে ৫৫০ টাকা দিয়ে ৪ ঘন্টার জন্য নৌকা ঠিক করলাম...ছোট একটা মাঝি খুবই আন্তরিক ছিলো ছেলেটা আমাদের পেয়ারা বাগান পেয়ারা বাজার সব ঘুরিয়ে দেখিয়ে আনলো...আসলে নৌকার জার্নি টা এই ট্রিপের সেরা একটা সময় ছিলো আমার মতে...দুপাশে গাছগাছালি মাঝখান দিয়ে খালের পানিতে আসতে আসতে নৌকা এগিয়ে যাচ্ছে...কোন প্রকার সাড়াশব্দ ছিলো না আশেপাশের...আমরা বন্ধের দিন যায়নি তাই আরামে ঘুরতে পারলাম...এরপর সোজা লোকাল টমটমে আর মাহিন্দ্রাতে করে গুটিয়া মসজিদ গেলাম...ঢুকে মাত্র গোসল করে নিলাম কারণ যোহরের নামাজের সময় হয়ে গেলো...নামাজ পরে মসজিদের আশেপাশে ঘুরে দেখলাম...একটা বিষয় দেখে খারাপ লাগলো মসজিদের পার্কে প্রেমিক প্রেমিকার কাজকারবার দেখে...এরপর আবার মাহিন্দ্রাতে উঠে দূর্গাসাগর দিঘী তে গেলাম...২০ টাকা টিকেট কেটে ঢুকলাম...তেমন আহামরি কোন ঘুরার জায়গা না আমার মতে...শুধু দিঘীর মাঝে একটা দ্বীপের সৃষ্টি হয় সেটা দেখার মতো...আর এই দীঘির চারিপাশ পুরা ঘুরে আসতে ১ ঘন্টার উপর লাগবে...আমরা বেশি সময় না নষ্ট না করে সোজা নতুন বাজার...নতুন বাজারের নাম করা রাজ বিলাসের খিচুড়ি খেলাম মাত্র ৬০ টাকা বেশি মজা ছিলো তাই জনপ্রতি দুবার করে খেলাম...এরপর পাশে বিখ্যাত নিতাই এর রসগোল্লা খেলাম...আহা গরম গরম মুখে দিলেই টশ করে ভিতরে চলে যাচ্ছে...খাওয়া শেষে একটা রিকশা নিয়ে গেলাম অক্সফোর্ড মিশন গির্জাতে...প্রথমে ঢুকতে দিচ্ছিলো না পরে অন্য একটা গেইট খোলা পেয়ে তাড়াতাড়ি ঢুকে ঘুরে আসলাম বাহিরের দিক থেকে...বিকাল ৫ টায় চলে গেলাম ৩০ গোডাউনে বাতাস খেতে...আমরা চাইলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে আসতে পারতাম কিন্তু ক্লান্তি কাজ করাতে ৩০ গোডাউনে বসে আড্ডা দিলাম...আড্ডা শেষে লঞ্চ ঘাটে চলে গেলাম ৫ টাকা টিকেট করে ঘাটে ঢুকলাম...প্রায় ৮ টায় চাঁদপুরের দুইটা লঞ্চ ঘাটে আসে...অনেক ঠেলাঠেলি করে একটা তে উঠে গিয়ে আবার সোজা লঞ্চের ছাদে জায়গা করে নিলাম...আজ তেমন বাতাস নাই কিন্তু বেশি পরিমাণের তারার দেখা পেলাম আজ...কিছুসময় পর ইমন বুঝতে পারলো তার চশমার ব্যাগ সাথে নাই ঠেলাঠেলি তে কাম বানিয়ে দিছে...কিছু টাকা দামি চমশা মোবাইল এর চার্জার তার থেকে চিরদিনের জন্য বিদায় নিলো...মন খারাপ করে ও ঘুমিয়ে গেলো আর আমি গান শুনে শুনে তারা আর অন্যপাশে চাঁদের কিরণ দেখি...রাত ২ টায় আমাদের চাঁদপুর নামিয়ে দিলো...চাঁদপুর নেমে সোজা ইলিশ দিয়ে ভাত খেতে লঞ্চ ঘাটে অবস্থিত খাবার হোটেলে ঢুকলাম...বড় বড় দুই পিস মাছ অর্ডার করলাম সাথে বেগুন ভাজা...আহা রাতের খাবার টা বেশি সেরা হয়ে গেলো...এরপর রিকশা নিয়ে রেলওয়ে স্টেশনে গেলাম...বাবা রে বাবা যে বিশাল লাইন প্রথমে দাঁড়িয়ে গেলাম লাইনে...শুনলাম লেইনে দাঁড়িয়ে কাজ হবে না টিকেট দিচ্ছে সব দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য বসার কোন সিট নাই...তাই লাইনে না দাঁড়িয়ে টিটি কে খুঁজে নিলাম উনাকে রিকুয়েস্ট করে একটা বগির কিছু অংশ আমরা দুজনের জন্য নিলাম...চট্টগ্রামের টিকেট এর ভাড়া দিয়ে দিলাম...আবার গামছা বিছিয়ে দিয়ে শুয়ে বসে চট্টগ্রাম চলে আসলাম...
খরচের বিবরণ:
আমরা ২ জন গিয়ে ছিলাম জনপ্রতি ১৮০০ টাকা খরচ হয়েছিলো
চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর ১৭০ টাকা
চাঁদপুর থেকে বরিশাল ২০০ টাকা
রাতের ডিনার ১০০ টাকা
বরিশাল থেকে কুড়িয়ানা ৬০-৮০ টাকা ম্যাজিকে
কুড়িয়ানা থেকে নৌকা ৪ ঘন্টার জন্য ৫৫০ টাকা একজনের ২৭৫ টাকা করে গেল
দুপুরের খিচুড়ি ১৫০ টাকা
মিষ্টি ১০ টাকা করে ৪টা ৪০ টাকা
বরিশাল থেকে চাঁদপুর ২০০ টাকা
রাতের ডিনার ১৭০ টাকা ইলিশ দিয়ে
চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম ১৭০ টাকা
সারাদিন মিলে আরো গাড়ি ভাড়া ২৫০ টাকা
মাঝির নাম ও নাম্বার: মিজান 01763749377
যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে আসবেন না নিজের সাথে করে নিয়ে চলে আসুন একটা গামছা অবশ্যই সাথে রাখবেন আপনাকে অনেক সাহায্য করবে এটা...আর ট্রেন আর লঞ্চে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস একদম সাথে সাথে রাখবেন বিভিন্ন স্টেশনে নামলে ব্যাগও সাথে নিয়ে নামবেন ধন্যবাদ আপনার যাত্রা শুভ হউক কিছু জানতে হলে মেনশন দিয়ে জিজ্ঞাসা করবেন না হয় কমেন্ট খুঁজে পাইনা


